বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৪

পি ফিল্ম মঞ্জুরি

ছবি নির্মাণের সুবিধাসমূহ :
(ক) সাধারণ সুবিধা : সাধারণ সুবিধায় ছবি নির্মাণ করতে হলে নির্মাতাকে নগদ ২(দুই) লক্ষ টাকা জামানত প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুটিং ফ্লোর, ক্যামেরা, লাইট ইত্যাদি ব্যবহারের ভাড়া এবং ডাবিং, এডিটিং, রেকর্ডিং এবং নেগেটিভ মুদ্রণ ও পরিস্ফুটনের সার্ভিস চার্জ বিলম্বে (ছবি মুক্তির প্রাক্কালে) পরিশোধের সুযোগ প্রদান করা হবে।
(খ) নগদ সুবিধা : নগদ সুবিধায় ছবি নির্মাণ করতে হলে নির্মাতাকে নগদ ২৫ হাজার টাকা জামানত প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে সুটিং ফ্লোর, ক্যামেরা, লাইট ইত্যাদি ভাড়া এবং ডাবিং, এডিটিং, রেকর্ডিং ও নেগেটিভ মুদ্রণ/ পরিস্ফুটনের সার্ভিস চার্জ নগদে পরিশোধ করতে হবে।
(গ) পি-ফিল্ম (চৎরারষবমবফ ঋরষস) সুবিধা :
“পি-ফিল্ম” মঞ্জুরী নীতিমালা-২০১০ :
পি-ফিল্ম (চৎরারষবমবফ ঋরষস) বলতে বুঝায় জামানত বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নগদ জমা প্রদানপূর্বক মুক্তির পূর্ব পর্যন্ত বিশেষ সুবিধায় নির্মিত চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় কাঁচা ফিল্ম বাকীতে প্রদানের পদ্ধতি তথা পি-ফিল্ম (চৎরারষবমবফ ঋরষস) প্রথা প্রবর্তিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই পদ্ধতির কিছু কিছু নিয়ম পরিবর্তিত হয়। বিএফডিসি’র পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত ক্রমে ২০০৫ সনের ১২ জুন পি-ফিল্ম সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। পি-ফিল্ম সুবিধা গ্রহণকারী কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার অপব্যবহার করে এবং অর্থ খেলাপি হয়। ফলে বিএফডিসি’র বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া পড়ে এবং বিএফডিসি অর্থ সংকটে নিপাতিত হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের নিমিত্তে পর্ষদ সভার অনুমোদনক্রমে ২০০৭ সনের ৩০ জুন উক্ত সুবিধা রহিত করা হয়।
সাধারণ মানুষের জন্য চলচ্চিত্র এখনও একটি শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রকে উৎসাহিত করতে সরকারের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দাবী এবং ৯ম জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৯/০১/২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত ১১তম বৈঠকের সুপারিশের প্রেক্ষিতে সার্বিক পর্যালোচনান্তে একটি যুগোপযোগী পি-ফিল্ম নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় ‘পি-ফিল্ম নীতিমালা-২০১০’ প্রণয়ন করা হয়।
(১) শিরোনাম : এ নীতিমালা ‘পি-ফিল্ম (চৎরারষবমবফ ঋরষস) প্রদান নীতিমালা-২০১০/ নামে অভিহিত হবে।
(২) উদ্দেশ্য : সুস্থ ধারার বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোগিতা প্রদান।
(৩) পি-ফিল্ম সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা :
(ক) পি-ফিল্ম সুবিধার জন্য আবেদনকারীকে বাংলদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সদস্য হতে হবে;
(খ) সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের সুনাম থাকতে হবে।
(৪) পি-ফিল্ম সুবিধা পাওয়ার অযোগ্যতা :
(ক) বিএফডিসি’র খেলাপি তালিকাভুক্তদের এ সুবিধা প্রদান করা যাবে না;
(খ) চিহ্নিত অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাতারা এ সুবিধা পাবেন না।
(৫) পি-ফিল্ম সুবিধা অনুমোদন পদ্ধতি :
(ক) বিএফডিসি কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন প্রাপ্তির পর উৎপাদন শাখা হতে প্রাথমিকভাবে আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে;
(খ) আবেদনটি প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হলে হিসাব শাখা ও আইন শাখার মতামত গ্রহণ করা হবে;
(গ) অতঃপর আবেদনটি বিবেচনার জন্য বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে উপস্থাপন করা হবে;
(ঘ) সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন;
(ঙ) পি-ফিল্ম দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ ও চলচ্চিত্র নির্মাতার মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে; (চ) চুক্তিনামা বিএফডিসি’র পক্ষে পরিচালক (উৎপাদন) কর্তৃক এবং আবেদনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে। চুক্তিনামা স্বাক্ষর হওয়ার পর পি-ফিল্ম সুবিধা কার্যকর হবে।
(১) পি-ফিল্ম ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিম্নে বর্ণিত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে :
(ক) পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম - ৪০,০০র্০ (চল্লিশ হাজার) ফুট।
(খ) পজেটিভ - ৪০,০০র্০ (চল্লিশ হাজার) ফুট।
(গ) সাউন্ড নেগেটিভ - ১৬,০০র্০ (ষোল হাজার) ফুট।
(ঘ) ম্যাগনেটিক টেপ (শব্দ) - ১৫,০০র্০ (পনের হাজার) ফুট।
(২) পি-ফিল্ম ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য উক্ত ৬নং দফায় বর্ণিত প্রদেয় সুবিধাদি গ্রহণ করতে হলে আবেদনকারী প্রযোজককে/প্রযোজনা সংস্থাকে বিএফডিসির অনুকূলে নগদ এককালীন ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা অগ্রিম/জামানত প্রদান করতে হবে।
(৩) ইনডোর সুটিংয়ের ক্ষেত্রে পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহের নিয়মাবলী :
(ক)
বিএফডিসি’র অভ্যন্তরে সিডিউল থাকা সাপেক্ষে সুটিং এর জন্য প্রথম কিন্তিতে এককালীন সর্বোচ্চ ৫,২০র্০ (পাঁচ হাজার দুইশত) ফুট পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহ করা হবে;
(খ)
২য় কিন্তিতে সিডিউল থাকা সাপেক্ষে সুটিং এর জন্য প্রথম কিস্তিতে প্রদত্ত ফিল্মের যে পরিমান এক্সপোজড ফিল্ম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ষ্টোরে জমা দেয়া হবে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে সে পরিমাণ পিকচার নেগেটিভ সরবরাহ করা হবে;
(গ)
পরবর্তী পর্যায়ে একই নিয়মে চক্রাকারে নির্ধারিত কোটার মধ্যে পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহ করা হবে। তবে কোন পর্যায়েই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে পিকচার নেগেটিভের পরিমাণ কোনক্রমেই ৫,২০র্০ (পাঁচ হাজার দুইশত) ফুটের বেশী থাকতে পারবে না।
(৪) আউটডোর (ঢাকার আশে পাশে) সুটিংয়ের ক্ষেত্রে পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহের নিয়মাবলী:
(ক)
ঢাকাসহ আশে পাশে লোকেশনে সিডিউল থাকা সাপেক্ষে সুটিং এর জন্য প্রথম কিস্তিতে এককালীন সর্বোচ্চ ১০,০০র্০ (দশ হাজার) ফুট পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবারহ করা হবে;
(খ)
২য় কিস্তিতে সিডিউল থাকা সাপেক্ষে প্রথম কিস্তিতে প্রদত্ত ফিল্মের যে পরিমাণ এক্সপোজড ফিল্ম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ষ্টোরে জমা দেয়া হবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে সে পরিমাণ পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহ করা হবে;
(গ)
পরবর্তী পর্যায়ে একই নিয়মে চক্রাকারে নির্ধারিত কোটার মধ্যে পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহ করা হবে। তবে কোন পর্যায়েই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে পিকচার নেগেটিভের পরিমাণ কোনক্রমেই ১০,০০র্০ (দশ হাজার) ফুটের বেশী থাকতে পারবে না।
(৫) আউটডোর (দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চল) সুটিংয়ের ক্ষেত্রে পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহের নিয়মাবলী:
(ক)
ঢাকার বাইরে দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুটিং এর জন্য সিডিউল থাকা সাপেক্ষে প্রথম কিস্তিতে এককালীন সর্বোচ্চ ২০,০০র্০ (বিশ হাজার) ফুট পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবারহ করা হবে;
(খ)
২য় কিস্তিতে সিডিউল থাকা সাপেক্ষে প্রথম কিস্তিতে প্রদত্ত ফিল্মের যে পরিমাণ এক্সপোজড ফিল্ম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ষ্টোরে জমা দেয়া হবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে সে পরিমাণ পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহ করা হবে;
(গ)
পরবর্তী পর্যায়ে একই নিয়মে চক্রাকারে নির্ধারিত কোটার মধ্যে পিকচার নেগেটিভ ফিল্ম সরবরাহ করা হবে। তবে কোন পর্যায়েই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে পিকচার নেগেটিভের পরিমাণ কোনক্রমেই ২০,০০র্০ (বিশ হাজার) ফুটের বেশী থাকতে পারবে না।
(৬) পি-ফিল্ম সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রযোজক কর্তৃক প্রদত্ত জানামত/অগ্রিম চলচ্চিত্রটির চূড়ান্ত বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে।
(৭) পি-ফিল্ম সুবিধায় নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তির পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে ১১ নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক জামানত/অগ্রিম সমন্বয়ের পর সমুদয় বাকেয়া বির নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হবে।
(৮) এ সুযোগের আওতায় নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের কাজ বিএফডিসি’র সিডিউলের সাথে সমন্বয় করে সম্পন্ন করতে হবে।
(৯) পি-ফিল্মের আওতায় নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ ১(এক) বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ১(এক) বছরের বেশী সময় প্রয়োজন হলে বর্ধিত সময়ের জন্য বকেয়ার উপর ১২% হারে সুদ প্রদান করতে হবে।


Share with :
Facebook Facebook